“করোনা”ই  অন্ধকারে ডেকে গেলো সাধারণ প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের ঈদ আনন্দ!

মক্কা(সৌদি আরব) প্রতিনিধি তাজউদ্দিন তারেক।

সৌদি প্রবাসীদের ঈদ, নেই নেই কোন  এবার আনন্দ -উৎসব মুখর চিত্র। সর্বত্র আতঙ্ক উৎকন্ঠা আর দুর্চিন্তার বাজ যেনো সবার কপালে। গত দুই মাস যাবৎ চাকরিহীন ঘর বন্ধি অবস্থায়। নিজেদের বেকারত্ব ও দেশের পরিবার পরিজনের জন্য টাকা পাঠাতে না পেরে প্রবাসীদের মনে এক চাপা কষ্ট যা মুখ দেখলেই সহজে যে কেউ বুঝতে পারবে। করোনা ভাইরাসের কারণে টানা লকডাউনে মুখে ঘরবন্দি হয়ে আছেন দেশটিতে থাকা প্রায় ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশী।

প্রবাসীদের কাছে এবারের ঈদ যেনো “ক্ষুধার রাজ্য পৃথিবী গদ্যময় আর পূর্ণিমার চাঁদ যেনো জলসানো রুটির মত।”

সৌদি আরবে এবারের ঈদটা হবে একেবারেই ভিন্ন রকম। ঈদকে সামনে রেখে করোনা প্রতিরোধে আগামীকাল ২৩ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি গত ১৮ই মে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি এবং সিনিয়র স্কলার্স কাউন্সিলের প্রধান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ এবং ইফতা শেখ আবদুল আজিজ আল আশেখ রায় দিয়েছেন যে বর্তমান মহামারী ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এবার একটু ব্যতিক্রমী ভাবে বাড়িতে ঈদুল-ফিতরের নামাজ পড়ে নিবেন সবাই। বিষয়টির সাথে একমত পোষণ করেন সিনিয়র স্কলার্স কাউন্সিলের সদস্য ও ফতোয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য শেখ আবদুল সালাম আবদুল্লাহ আল-সুলাইমান।

সৌদি আরবে বর্তমানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো এখন লোকসানের মুখে পড়বে। শুধু মুদি দোকান ছাড়া বাকি সব আইটেমের দোকান বর্তমানে বন্ধ। অথচ সৌদি আরবে রমজান মাসটা ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর করোনার প্রাদুর্ভাবের জন্য এই সময়টা সবাই ঘরবন্দী হয়ে বসে আছে। এই বন্ধি সময় দোকান ভাড়াও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাতা নিয়ে খুবই দুর্বিসহ সময় পার করছেন এখানকার বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা।

এবারের ঈদ নিয়ে কয়েকজন প্রবাসী সাথে কথা বললে তারা বলেন প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে দেশ পরিবার আত্মীয়-স্বজনের জন্য টাকা পরিবারের জন্য পাঠাতাম, এবার বাড়িতে টাকা দিতে পারছি না। আর যারা টাকা পাঠিয়েছে তাও প্রয়জনের তুলনা খুবই সীমিত। বর্তমানে লকডাউনের কারণে বাসায় দুমাস ধরে বন্দি হয়ে আছি। অনেকেই খেয়ে না খেয়ে রোজা পালন করছি। এমন পরিস্থিতিতে যে পড়তে হবে- তা আমরা কোনোদিন ভাবিনি। একই সুরে কথা বলেন একাদিক প্রবাসী ভাইয়েরা। এ ব্যাপারে সবাই বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন।

SHARE