রফিক চৌধুরী জেদ্দা সৌদি——————-  জনসমাগম এরিয়ে চলি, সৌদি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা করি, নিজে সচেতন হই অন্যকেও সচেতন করি।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে যেখানে সৌদি সরকার একের পর এক সব কিছু বন্ধ ঘোষণা করেছে, সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছেন, একের অধিক দুইজনকে এক সাথে না দাঁড়াতে ও চলতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, সন্ধ্যা-সকাল কারফিউ জারি করেছে এই ভাইরাস থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আর সেইখানে আমাদের দেশের কিছু প্রবাসী জেদ্দায় বেশ কয়েকটি এলাকায় যেখানে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা বলে পরিচিত সেই সমস্ত এলাকায় আড্ডা না দিলে তাদের পেটের ভাত হজম হয় না।

যেখানে সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসের এতো নির্মমতার কথা শোনে বা সাবধান হওয়ার জন্য আমাদেরকে সৌদি সরকার, আমাদের দূতাবাস, কনস্যুলেট জেনারেল সহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এতো প্রচার-প্রচারণা করছেন এবং সৌদি সরকার আইনি কঠোরতা প্রয়োগ করার পরেও আমাদের দেশের কিছু কিছু প্রবাসী মানুষের মাঝে সতর্ক থাকার তেমন কোন লক্ষণই নেই। উপদেশ মূলক কিছু বলতে গেলে উল্টো শুনতে হয় ওদের থেকে ধর্মীয় উপদেশ যেমন, আমরা এসব ভাইরাস টাইরাস বিশ্বাস করি না, আল্লাহ যখন যাকে যেখানে যেভাবে মৃত্যু রেখেছে সে সেখানেই মরতে হবে ।

কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, আমরা জীবন যৌবন বাজী রেখে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাজার কষ্টের মাঝেও পরিবারের সুখের জন্য প্রবাসে পরে আছি। যদি আমার বা আপনার কিছু হয়ে যায় আমাদের দিকে যারা থাকিয়া আছে তাদের কি হবে? বিশেষত এই রোগটি ভাইরাস যা একজন মানুষ থেকে অন্য মানুষের সংস্পর্শে এটি ছড়িয়ে যায়। কেন আমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছি।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন? আপনার একজনের কারণে অন্য একজন প্রবাসীর ক্ষতি হচ্ছে, একেতো আপনি এই দেশের আইন লঙ্ঘন করছেন তদুপরি অন্যান্য প্রবাসীদের ক্ষতি করছেন। আপনি কি জানেন আপনার পাশে যে লোকটি দাড়িয়ে আছে অথবা আপনার সংস্পর্শে অন্য জনের কাছে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে না! তাই আসুন আগে আমরা নিজেরাই সচেতন হই অন্যকেও সচেতন করি । সৌদি আরবের আইন কানুন মেনে চলি সাবধানতা অবলম্বন করি। জনসমাগম এরিয়ে চলি, অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরে অবস্থান করি, নিজে বাঁচব ও অন্যকেও সুন্দর ভাবে বাঁচাতে সহযোগিতা করবো।

SHARE