বিডি সংবাদ ৭১ ডেস্ক————————– রংবেরং এর আতশবাজীর খেলা ঢাকার আকাশে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে  শুরু হল মুজিববর্ষের।

গতকাল রাত আটটায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর দিন ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ বর্ষ উদযাপন করা হবে। তবে করোনাভাইরাসজনিত বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৩২ নং ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আতশবাজি প্রদর্শনী হয়। এছাড়াও ঢাকার রবীন্দ্র সরেবর, হাতিরঝিল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসটি ও জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আতশবাজি প্রদর্শনী হয়। সারাদেশের মানুষ এই সরাসরি এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে এই আতশবাজী উপভোগ করেন।

এদিকে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সরাসরি স¤প্রচার করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ সব বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং সোশ্যাল ও অনলাইন মিডিয়ায় একযোগে স¤প্রচার করে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আতশবাজির প্রদর্শনী নাম ছিল ‘মুক্তির মহানায়ক’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। জাতীয় সংগীতের পর প্রেসিডেন্ট ভাষণ দেন। এরপর শত শিশুর কণ্ঠে গান পরিবেশিত হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এ নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ওই দিনটি জাতীয় ‘শিশু-কিশোর দিবস’ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকীর উদ্বোধন ও জাতীয় শিশুদিবস উপলক্ষে গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠান থাকলেও শিশু সমাবেশের আয়োজন ‘জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনায়’ স্থগিত করেছে আয়োজক কমিটি। সেইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও কোনো কর্মসূচি পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রেসিডেন্টের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ব্যক্ত করবেন তার অনুভূতি। শেখ রেহানার লেখা কবিতা আবৃত্তি করবেন বড় বোন শেখ হাসিনা। তাতে থাকবে বাবা-হারা কন্যার আকুতি।

পরিবেশিত হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে থিম সং, শেখ রেহানাও সেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য পাঁচ বিদেশি অতিথি ভিডিও বার্তা সম্প্রচার করা হয়। তারা হচ্ছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ওআইসির মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমান।

এর আগে বিকাল ৫টায় গণভবনে মুজিববর্ষের স্মারক ডাকটিকিট ও স্যুভেনির উম্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল ম্যাপিং হয়। সাথে ছিল লেজার শো। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুই সিটি করপোরেশন আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রথমবারের মতো ২০০ টাকা মূল্যমান প্রচলনযোগ্য স্মারক ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসসহ অন্যান্য শাখা অফিসগুলোতে পাওয়া যাবে ২০০ টাকার নোট।
গতকাল বিকালে নতুন ২০০ টাকার নোট ও স্মারক মুদ্রা উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নোট ও স্মারক মুদ্রা উদ্বোধন করা হয়।

শতভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত এবং ইউভি কিউরিং ভার্নিশযুক্ত গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ২০০ টাকা মূল্যমান স্মারক ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪৬ মিমি/৬৩ মিমি। স্মারক ব্যাংক নোটটির সামনভাগের বাম পাশে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে নোটের মূল্যমান ‘২০০’ ও ‘২০০’ ডিজাইন হিসেবে মুদ্রিত রয়েছে।

এছাড়া নোটের ওপরের অংশে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবর্ষ ‘১৯২০-২০২০’, ওপরে ডান দিকে কোনায় ইংরেজিতে মূল্যমান ‘২০০’ ও ডান দিকে নিচে কোনায় বাংলায় মূল্যমান ‘২০০’ লেখা রয়েছে। নোটের পেছন ভাগে ডান দিকে গ্রামবাংলার বহমান নদী ও নদীর পারের দৃশ্য (নদীর বুকে নৌকা, নদীর পারে পাটক্ষেত ও নৌকায় পাট বোঝাইয়ের দৃশ্য) এবং এর বাম পাশে বঙ্গবন্ধুর যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রী থাকাকালীন একটি ছবি মুদ্রিত রয়েছে

SHARE