স্টাফ রিপোর্টার বিডি সংবাদ৭১ করোনা,ভাইরাস মানেই মৃত্যু নয়   সংক্রমিত ৯৮ ভাগই সুস্থ হচ্ছেন। বাংলাদেশে আক্রান্ত তিন জনের অবস্থা উন্নতির দিকে

করোনা ভাইরাস মহামারি রূপে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশেও আক্রান্ত হয়েছেন তিন জন। রীতিমতো আতঙ্কে রূপ নিয়েছে করোনা। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত হলে মৃত্যু কি অবধারিত? কী বলছে পরিসংখ্যান? অধিকাংশ পরিসংখ্যান বলছে, করোনায় আক্রান্ত মানেই মৃত্যু নয়। আক্রান্ত ৯৮ ভাগ রোগীই সুস্থ হচ্ছেন। করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর হার সম্পর্কে অনেকগুলো পরিসংখ্যান বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানী ক্রিস হুইটি মনে করেন, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার এক শতাংশেরও কম। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মহাপরিচালক ডা. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়েসুস অবশ্য মৃত্যুর হার আরো বেশি বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশ।

মৃত্যুর এ হার করোনায় আক্রান্ত যে রোগীদের শনাক্ত করা হয়েছে শুধু সেই সংখ্যার ওপর নির্ধারিত। হাসপাতালে যাননি কিংবা শনাক্ত হননি করোনায় আক্রান্ত এমন অনেকেও রয়েছে। ফলে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ৩.৪ শতাংশের কম হওয়াই যুক্তিযুক্ত। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, করোনায় মৃতদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যা বেশি। তরুণদের ঝুঁকি বা মৃত্যুর হার কম। বয়স্ক ব্যক্তিরা ছাড়াও যারা করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সা দিচ্ছেন তারাও ঝুঁকিতে। মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের। ৪০ থেকে ৭০ এর কোঠায় যাদের বয়স এরপরই তারা ঝুঁকিতে রয়েছেন। কিন্তু কম ঝুঁকিতে রয়েছে ৩৯ বছর বা তার কম বয়সিরা। চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্র (সিসিডিসি) জানিয়েছে, ১০ থেকে ৩৯ বছর বয়সি করোনায় আক্রান্তদের মৃত্যু হার দশমিক ২ ভাগ। ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সিদের দশমিক ৪ ভাগ, ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সিদের এক দশমিক ৩ ভাগ, ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সিদের তিন দশমিক ৬ ভাগ, ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সিদের ৮ ভাগ এবং ৮০ বছরের বেশি বয়স্কদের মৃত্যু হার ১৪ দশমিক ৮ ভাগ।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৫ জন। মারা গেছেন ৪ হাজার ২৮ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় গেছেন ৬৪ হাজার ১৬৯ জন। যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বেশির ভাগই হূদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। গবেষণা থেকে আরো জানা যায়, ৯ বছরের কম বয়সি শিশুরা নিরাপদে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি করোনা ভাইরাসে। বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার খুঁজে পাওয়া যায়নি। চীনের কিছু রোগীর ওপর ভাইরাসের বিরুদ্ধে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশেও নতুন করে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। চিকিত্সকরা বলছেন, কয়েকজনের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে এর কার্যকারিতা বোঝা সম্ভব নয়। বিশাল সংখ্যক মানুষের ওপর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। আশা করা হচ্ছে মার্চ মাসের মাঝামাঝি করোনা প্রতিরোধে গবেষণায় সাফল্য আসতে পারে।

এদিকে সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৪৪ হাজার রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে ভাইরাসটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। সিসিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বৃদ্ধ এবং অন্যান্য রোগে আক্রান্তরা। এছাড়া করোনা ভাইরাসের চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ভাইরাসটির কেন্দ্রস্থল হুয়াংই  প্রদেশে, সংক্রমণের হার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি। হুবেই প্রদেশে মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য অঞ্চলে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, নারীদের তুলনায় পুরুষ রোগীর মৃত্যু হার বেশি। পুরুষের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। চিকিত্সকরা বলছেন, কোভিড-নাইনটিনে আক্রান্ত হলেই মৃত্যু অবধারিত নয়। বয়স্কদের ঝুঁকি থাকলেও সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি।

করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৭ মার্চের মুজিববর্ষের মূল অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে সরকার। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জাপান সফরও বাতিল করা হয়েছে। দেশে যে তিন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে। তারা একটি হাসপাতালের ‘আইসোলেশন’ ইউনিটে চিকিত্সাধীন। গতকাল মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, ঐ তিন জন ছাড়া আরো আট জন আইসোলেশনে আছেন।

গতকাল আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, ইতালি থেকে আসা প্রবাসী বাঙালিদের কাছাকাছি এসেছেন—এমন চার জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আসা আরো বেশ কিছু ব্যক্তিকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তবে কত জনকে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে, সে সংখ্যা তিনি জানাননি। মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জনের নাক-মুখের লালা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে নতুন করে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনা ভাইরাসের তথ্য জানতে-জানাতে খোলা হয়েছে ১২টি হটলাইন। এসব হটলাইনে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ হাজার ৭৭৮ কল এসেছে। আর এর মধ্যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১২৭ জনের।

 

SHARE