বিডি সংবাদ একাত্তর বিশেষ রিপোর্ট ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা মায়ের কোলের মধ্যে বসবাস করছে। বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচির আগে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে এক প্রতিবাদ সমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এসব কথা বলেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ভারত সরকার বলেছে, তারা ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করবে। কিন্তু ভারতে মুসলিমরা ধর্মীয় স্বাধীনতা দূরে থাক সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছে না। তাদের রাজপথে কুপিয়ে, পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এর ধিক্কার জানাই।’

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্র চোখ বন্ধ করে আছে এবং জাতিসংঘ নিশ্চুপ হয়ে আছে। জাতিসংঘ এখন মুসলিম নিধন সংঘে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করে আলোচিত হন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয় সাহা। তাঁর নাম না নিয়ে সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম সরকারের উদ্দেশে বলেন, যারা দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়, তাদের বিরুদ্ধে সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার এভাবে ভারতে মুসলিমদের হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারি না। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে।’ ভারতে ১ শতাংশ মুসলমান সরকারি চাকরি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ৩৩ থেকে ৩৪ শতাংশ সরকারি চাকরি পায়। সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ বলেন, এসব কথা বলতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ দেওয়া হয়।

ব্রিটিশ খেদাও আন্দোলনে মুসলিমরা নেতৃত্ব দিয়েছিল জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য সৈয়দ ফয়জুল করিম বলেন, ভারতবর্ষে মুসলমানরা ৭০০ বছর শাসন করেছিল। তারা সংখ্যালঘু নির্যাতন করলে ভারত হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হতে পারত না।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের বিভিন্ন নেতার বক্তব্য শেষে তাঁরা মিছিল নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন। পল্টন মোড়ে পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে আবার বায়তুল মোকাররমের দিকে গিয়ে তাঁরা কর্মসূচি শেষ করেন। তবে স্মারকলিপি নিয়ে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল ভারতীয় হাই কমিশনে যাবে বলে জানানো হয়।

 

SHARE