স্টাফ রিপোর্টার বিডি সংবাদ ৭১ শীতের রুক্ষতাকে বিদায় জানিয়ে প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে বসন্তের। বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় হলদে মেলার মাধ্যমে বরণও করে নেওয়া হয় বসন্তকে। বেলা বাড়তে বাড়তে উত্সবমুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস এলাকা, যেন চারদিকে হলুদের ছড়াছড়ি। এদিন সকালে জাতীয় বসন্ত উত্সব উদ্যাপন পরিষদের আয়োজনে বকুলতলায় বসন্ত উত্সবের উদ্বোধনী পর্ব শুরু হয়। ধ্রুপদী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজন চলতে থাকে দিনব্যাপী। একে একে পরিবেশন করা হয় গান, আবৃত্তি এবং নৃত্য। নানা বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে চারুকলা প্রাঙ্গণ। এক অন?্যরকম আবেশে ভরে ওঠে স্নিগ্ধ সকালটি। সেই আবেশ শুধু চারুকলা এলাকার মধে?্য সীমাবদ্ধ থাকেনি। ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস এলাকায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা আর ঘাসফুলে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস। ক?্যাম্পাস জুড়েই লেগেছে হলুদ রঙের ছোঁয়া। নারী-পুরুষ উভয়েই হলুদ রঙের পোশাকে নিজেদের সাজিয়েছেন। নারীরা নিজেদের বসন্তের সাজে সাজান। হাতে রেশমি চুড়ি আর পরনে বাসন্তি রঙের শাড়ি। বসন্ত উপলক্ষে?্য পুরুষদের পরনেও শোভা পায় রঙিন পাঞ্জাবি বা ফতুয়া। সবমিলিয়ে প্রকৃতি আর মানুষ বসন্তের আমেজে মিলেমিশে একাকার। কেউ এসেছেন দলবেঁধে, কেউ জুটিবদ্ধ আবার কেউ একা।

বসন্তবরণ উত্সবে আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাতেমা তিতলি বলেন,‘শীতে তৈরি হওয়া জড়তা কাটে বসন্তের আগমনে। বসন্তের রং আমাদের যেন নতুন করে উজ্জীবিত করে তোলে।’ চারুকলার বকুলতলায় বসন্ত উদ্যাপন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট জানান, গত ২৫ বছর ধরে এ আয়োজন হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাতটায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। চলে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত। অনুষ্ঠানমালায় একক সংগীত পরিবেশন, দলীয় নৃত্য পরিবেশন, একক আবৃত্তি ও দলীয় সংগীতের আয়োজন ছিল। এখানে কথা হয় আলমগীর হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ষড়ঋতুর এদেশে প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। এসব ঋতু আমাদের প্রকৃতির নব নব স্বাদ দেয়। এ স্বাদকে উত্সবের মাধ্যমে খুঁজে পেতে মূলত উত্সবে আসা। এদিকে বটতলায় আয়োজন করা হয়েছে সমগীত বসন্ত উত্সব। এবার ‘গানে প্রাণে উঠুক জেগে পাহাড় নদী বন’ স্লোগানে সমগীত সংস্কৃতি প্রাঙ্গণ বসন্তকে স্বাগত জানাতে উত্সবের আয়োজন করেছে। এখানে ঘুরতে আসা সেলিম জাহান জানান, ভালোবাসা দিবস বিদেশ থেকে ধার করা একটি সংস্কৃতি। তাই ভালোবাসা দিবস নিয়ে আমার আগ্রহ নেই। তবে বসন্ত উত্সব নিয়ে আমার আগ্রহ আছে ব্যাপক। কারণ আমার কাছে বসন্ত মানে ফুল, পাখি ও প্রকৃতি নিয়ে ব্যাপক একটি উন্মাদনা।

SHARE