স্টাফ রিপোর্টার বিডি সংবাদ৭১  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের অন্য কোন রাজনীতি না করে মানবিক কারণেই মুক্তি জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাথে টেলিফোনের আলাপের বিষয়ে কোনো জবাব পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্ন করা হলে গতকাল শুক্রবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।টেলিফোনে আলাপের বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, উনি (ওবায়দুল কাদের) কি বলেছেন এটা উনাকে জিজ্ঞাসা করলে, উনাকে বললে বেটার হবে। এখন একটাই বিষয়, এই মুহুর্তে দেশনেত্রীর শরীরের যে অবস্থা, গুরুতর অবণতি হয়েছে তার ট্রিটমেন্টই মূখ্য বিষয়। তাকে বাইরে বিদেশে পাঠানোর জন্য তার পরিবার থেকেই আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারের এখন আর এগুলো নিয়ে বা অন্য কারো এগুলো নিয়ে অন্যকোনো রাজনীতি না করে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেয়াটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমি মনে করি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের কথা পরিস্কার, ম্যাডামের মুক্তির দাবিটা নিয়ে আমরা আজকে নয়, গত ২ বছর ধরেই আমরা কোর্টে যাচ্ছি, কথা বলছি, রাস্তায় নামছি, চিৎকার করছি। সারা দেশবাসী এই মুহূর্তে ম্যাডামের মুক্তির দাবি করছে। একই সঙ্গে আজকে তার (খালেদা জিয়া) পরিবারও করছে। কয়েকদিন আগেই তারা (পরিবার) লিখিতভাবে বিএসএমএমইউ‘র ভাইস চ্যান্সলরকে তার এডভান্স টিট্রমেন্টের জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন। আর বাকী প্রশ্নগুলো সব অবান্তর থাকে, এগুলো আর প্রশ্ন থাকে না। তিনি জানান, চেয়ারপারসনের আইনজীবীদের সাথে তার মামলার বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।,এর আগে গতকাল সকালে ধানমÐির দলের কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন, আলাপ হয়েছে। তাদের দলের পক্ষ থেকে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন। আমি যেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করি।আবার খালেদার জামিন আবেদন: আগামী সাপ্তাহে খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে আবার আবেদন করবে তার আইনজীবীরা। স্থায়ী কমিটির সাথে বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এই কথা সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, আমরা আবার ম্যাডামের জামিনের দরখাস্ত করবো। আশা করি, অন্ততঃ দেশবাসীকে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ এমন একটি ইঙ্গিত দেবেন যে, না, দেশে বিচার ব্যবস্থা আছে, বিচার ব্যবস্থা না থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা জামিন দিতাম না। আমরা বিশ্বাস করি, হাইকোর্ট দেশের জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে আমরা এবার জামিনের আবেদন যদি করি অবশ্যই আমরা জামিন লাভ করবো।কবে নাগাদ জামিন আবেদন করবেন জানতে চাইলে প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, সিনিয়র ল‘ইয়ার্সের সঙ্গে আলাপ করে এজ আরলি এজ পোসেবল- মে বি নেকস্ট উইক, উইক আফটার আমরা আবেদন করবো।এর আগে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিকালে জাতীয় স্থায়ী কমিটিসহ সিনিয়র আইনজীবীদের এই বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপেতে যুক্ত হয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন- মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের মধ্যে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল প্রমূখ

SHARE