হাজী বোরহান উদ্দিন হাওলাদার ——-বিশ্লেষকদের মতে: চাপে পড়েছে মিয়ানমার, রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার সময় অল্প হয়ে আসছে  আসছে

যতো তাড়াতাড়ি যাবে ততো মঙ্গল রোহিঙ্গাদের আর এই দেশে নয় মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে হবে

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) পর এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালাত (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। গত ২৮ জানুয়ারি এ তদন্ত শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় আইসিসির কৌঁসুলির জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফাকিসো মোচোচোকো তদন্ত প্রক্রিয়ার নান বিষয় তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

মনবতাবিরোধী অপরাধ আর গণহত্যার প্রেক্ষাপটে বিশ্বে প্রথামবারের মতো জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক- এই দুই আদালতে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচারের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইসিজেতে অভিযুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে মিয়ানমারকে। আর আইসিসিতে বিচার হবে মিয়ানমারের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের।

আইসিজে ও আইসিসির পাশাপাশি জাতিসংঘের গঠিত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্তের প্রক্রিয়া (আইআইএমএম) তাদের কাজ শুরু করেছে। আইআইএমএমের একটি প্রতিনিধিদল গত নভেম্বরের শেষ দিকে ঢাকা ও কক্সবাজার সফরের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে। মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জাতীয়, আঞ্চলিক কিংম্বা আন্তর্জাতিক আদালতে ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করবে আইআইএমএম। এসব আইনি উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক পরিসরে মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ বাড়ল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিচার আদাল (আইসিজে) এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালাত (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যে বিচারিক অবস্থান গ্রহণ করেছে তাতে মিয়ানমার বড় মাপের চাপে পড়বে। চাপে পড়ে এক পর্যায়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার দিয়ে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবে। মিয়ানমার তখন দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। কেননা, দ্বিপাক্ষিকভাবে সমস্যা সমাধান করে আন্তর্জাতিক বিচারের হাত থেকে তারা তখন নিজেদের বাচানোর চেষ্টা করবে। সেই চেষ্টায় তারা কিছুটা সফল হলেও হতে পারে।

বিশ্লেষকরা আরো বলেন, দেশি-বিদেশি নানামুখী তৎপরতার পরেও কবে কখন কীভাবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে তার কোনো কূল-কিনারা দেখা যায়নি। রোহিঙ্গারা কবে তাদের বাড়ি ফিরে যেতে পারবে সেটা কেউ বলতে পারতো না। তবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলার অন্তর্বতী পদক্ষেপের আদেশ দেওয়ার পরে এখন একটা দুয়ার খুলেছে। রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার সম্ভাবনার পরিস্কার আলো দেখা যাচ্ছে। এখন আর মনে হচ্ছে না যে, খুব দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। মনে হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরার সময় অল্প হয়ে আসছে।#

নিউজটি সেয়ার করুন

SHARE