বিডি সংবাদ একাত্তর ডেস্ক——  ২৮৮৭৮ ইভিএম সেটে ভোট গ্রহণ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৪০ হাজার সদস্য, ১৩০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

১০১৩ দেশি ও ৭৪ বিদেশী পর্যবেক্ষক

মোট ভোটার সংখ্যা ৩০১০২৭৩ জন। পুরুষ ১৫৪৯৫৬৭ এবং নারী ১৪৬০৭০৬ জন। মেয়র প্রার্থী ৬ জন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ২৫১, মহিলা কাউন্সিলর ৭৭ জন। সাধারণ ওয়ার্ড ৫৪, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১৮, ভোটকেন্দ্র ১৩১৮, ভোট কক্ষ ৭৮৪৬টি, ঝুঁকিপ‚র্ণ কেন্দ্রে ৮৭৬।

মোট ভোটার ২৪৫৩১৯৪ জন। পুরুষ ১২৯৩৪৪১ এবং নারী ১১৫৯৭৫৩ জন। মেয়র প্রার্থী ৭ জন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ৩৩৫, মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮২। সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ২৫, ভোটকেন্দ্র ১১৫০, ভোট কক্ষ ৬৫৮৮। ঝুঁকিপুর্ণ ভোটকেন্দ্র ৭২১টি।

২০ দিন উৎসবের আমেজে প্রচার-প্রচারণার পর টানটান উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা ও শঙ্কার মধ্যে আজ শনিবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ২৮৮৭৮ ইভিএম সেটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হবে সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ নিয়ে আপত্তি-বিতর্কের মধ্যে কার্যত ভোটের মাঠে গড়াবে নৌকা আর ধানের শীষের লড়াই। দুই সিটির দুই হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ইতোমধ্যেই এক হাজার ৫৯৭টিকে ‘ঝুঁকিপ‚র্ণ’ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে; যা মোট ভোটকেন্দ্রের ৬৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ ছাড়াও ইভিএমে তেলেসমাতির শঙ্কাসহ ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কি না তা নিয়েও উৎকন্ঠা রয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ভোট হয়েছিল। সে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ভোটকেন্দ্র দখল করায় জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি গত বছর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচনেও ভোটাররা কার্যত ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি। তাছাড়া ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগের রাতের যে ‘ভোট’ সংস্কৃতি শুরু হয়েছে সে জন্যই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম গতকাল বলেছেন, যত বেশি মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে তত বেশি ভোট নৌকায় পড়বে। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইশরাক হোসেন ভোটার এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহŸান জানিয়েছেন।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির আজকের নির্বাচনে ভোট দেবেন ৫৪ লাখ ৬৩ হজার ৪৪৬৭ জন ভোটার। ভোট গ্রহণের জন্য দুই হাজার ৪৮৮টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৯৭টি ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপ‚র্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ভোট নিরপেক্ষ করতে পুলিশ, র‌্যাব, ভিডিপি, আনসার বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। এ ছাড়াও ৬৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১৩০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। তারপরও ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ভোট দিতে দেয়া হবে তো? গতকাল সিইসি ন‚রুল হুদা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও শান্তিপ‚র্ণভাবে পক্ষপাতহীন আচরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচন করবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছি তারা যেন নিরপেক্ষ ভ‚মিকা পালন করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন প্রতিযোগিতা মূলক হবে, অবাধ হবে, নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু সিইসির এমন বক্তব্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটাররা তেমন আস্থা রাখতে পারছেন না।

এবারই প্রথম ঢাকার দুই সিটির সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ হবে। ইভিএম পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা দেবেন সশস্ত্র বাহিনীর ৫ হাজারের বেশি নিরস্ত্র সদস্য; যারা দায়িত্ব পালন করবেন সব ভোটকেন্দ্রে। অথচ ভোটার এখনো ইভিএমের ব্যবহার তেমন জানেন না। নির্বাচন কমিশন স্বল্প পরিসরে ইভিএমের ‘মক’ কার্যক্রম করলেও ভোটারদের মধ্যে সাড়া দেখা যায়নি। ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অবদুল বাতেন বলেছেন, ভোটের সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ইভিএমের প্রস্তুতিও শেষ, মক ভোটিং ও ডেমো ভোটিং হয়েছে। ভোটাররা সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারবেনÑ এই আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ভোট শেষে প্রিজাইডিং অফিসাররা ট্যাবের মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফলাফল পাঠিয়ে দেবেন। পরে কেন্দ্রীয়ভাবে তা ঘোষণা করা হবে। উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। এই উৎসবটাকে কোনোভাবেই মলিন হতে দেবো না। ভোটারদের বলব, কোনো রকম ভয়-ভীতি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত কয়েকটি দলের প্রার্থীরা মেয়র পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও ম‚লত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই ভোটযুদ্ধ হবে। ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মো. আতিকুল ইসলাম এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের তাবিথ আউয়াল এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের মধ্যেই মূলত লড়াই হবে। নির্বাচনে ইভিএমে কারচুপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহার করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে না দেয়াসহ নৌকার পক্ষে ফলাফল নেয়ার শঙ্কা মূল প্রতিদ্ব›দ্বী বিএনপি করলেও নির্বাচন নিরপেক্ষ করতে পারা না পারা নিয়ে সরকারও একটা স্নায়ুচাপের মধ্যে আছে।

ঢাকা উত্তর সিটি : ৬ জন মেয়রপ্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগের মো: আতিকুল ইসলাম (নৌকা), বিএনপির তাবিথ আউয়াল (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের শেখ মো: ফজলে বারী মাসউদ, পিডিপির শাহীন খান, এনপিপির মো: আনিসুর রহমান দেওয়ান, সিপিবির আহম্মেদ সাজ্জাদুল হক। এই সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৫১ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৭৭ জনসহ তিন পদে ৩৩৪ জন প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

এই সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৫৪টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ১৮টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ৩১৮টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা সাত হাজার ৮৪৬টি। আর অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র না থাকলেও অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৫৪টি। এই সিটিতে ভোটারের সংখ্যা ৩০ লাখ ১০ হাজার ২৭৩ জন। পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ জন এবং নারী ভোটার ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭০৬ জন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি : ৭ জন মেয়রপ্রার্থী ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। তারা হলেনÑ আওয়ামী লীগের ব্যারিস্টার শেখ ফজলে ন‚র তাপস (নৌকা), বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির হাজী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলনের মো: আবদুর রহমান, এনপিপির বাহরানে সুলতান বাহার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো: আকতার উজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লা, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন। এই সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৩৩৫ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৮২ জনসহ তিন পদে ৪২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা ৭৫টি, সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি, ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা এক হাজার ১৫০টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ছয় হাজার ৫৮৮টি। অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র না থাকলেও অস্থায়ী ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৭৬টি। এই সিটিতে ভোটার ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৪ জন। পুরুষ ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৪১ জন এবং নারী ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৩ জন।

দুই সিটিতে ঝুঁকিপ‚র্ণ কেন্দ্র : নির্বাচন কমিশন মনে করছে দুই সিটিতে ৬৪ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপ‚র্ণ। দুই হাজার ৪৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এক হাজার ৫৯৭টি ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ঝুঁকিপ‚র্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৬টি, দক্ষিণে ৭২১টি। বাকি ৮৯১টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য। কাফরুল, তেজগাঁও ও মোহাম্মদপুর থানার সবগুলো ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

২৮৮৭৮ ইভিএম সেট : ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে ২৮ হাজার ৮৭৮টি ইভিএম সেট দিয়ে। এ তথ্য জানিয়ে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ইভিএম সেট পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে এরই মধ্যে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ইভিএমের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য ভোট হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের শতভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে আমরা বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে ২ হাজার ৪৬৮টি ভোট কেন্দ্রে ১৪ হাজার ৪৩৬টি ভোটকক্ষ পরিচালনার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ শেষ করেছি। পরীক্ষামূলক বা মক ভোটিংয়ের জন্য ৩৫ হাজার ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচন ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ৪৫ হাজার ৭৭০ জন প্রিজাইডিং পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক কেন্দ্রে দুইজন করে ৫ হাজার ১৫ জন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিমান বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। তারা টেকনিক্যাল কাজ দেখবেন। তবে আইনশৃঙ্খলার কোনো কাজে অংশ নেবেন না।

গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ১৭ বা ১৩ ডিজিটের এনআইডি নম্বর ১০৫ নম্বর এসএমএস করে যেকোনো ভোটার তার কেন্দ্রের বিষয়ে জানতে পারবেন জানিয়ে এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক বলেন, নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার কিংবা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার কোনো ভোট দিতে পারবেন না। তবে তারা ভোট পরিচালনা করবেন। বিভিন্ন কারণে কারো ফিঙ্গারপ্রিন্ট না মিললে তারা ১ শতাংশ পর্যন্ত ভোট দিতে সহায়তা করতে পারবে। এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। কেউ অবৈধভাবে ভোট বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলে তাকে শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সকালে পোলিং এজেন্টের উপস্থিতিতে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফলের প্রিন্ট কপি প্রত্যেক এজেন্টের কাছে দেয়া হবে। কেন্দ্র থেকেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। পরে কেন্দ্র থেকে সেই ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। তিনি জানান, একজন ভোটারের ভোট দিতে ৪০ সেকেন্ড থেকে সর্বোচ্চ ১ মিনিট সময় লাগবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : গত ৩০ জানুয়ারি থেকে দুই সিটিতে ৬৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। দুই সিটিতে আরো ৫ প্লাটুন করে মোট ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২৭ প্লাটুন ও দক্ষিণ সিটিতে ৩৮ প্লাটুন বিজিবি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। একই সঙ্গে উত্তর সিটিতে ৫৪ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৭৬ জনসহ ১৩০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও বিজিবির এক প্লাটুন সদস্য নিয়ে দু’টি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালনে পাঁচ দিনের জন্য নিয়োজিত থাকবেন।
দুই সিটির ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে উত্তর সিটির ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ডে পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ৫৪টি মোবাইল টিম ও ১৮টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৫৪টি মোবাইল টিম এবং ২৭ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। অন্য দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ডে পুলিশ ও এপিবিএন সমন্বয়ে ৭৫টি মোবাইল টিম ও ২৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র‌্যাবের ৭৫টি মোবাইল টিম এবং ৩৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচনী এলাকায় ভোটের দুই দিন আগ থেকে ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দিনসহ মোট চার দিন এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা মোট পাঁচ দিন নির্বাচনী এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

বিচারিক কর্মকর্তা : নির্বাচন উপলক্ষে দুই সিটিতে ১২৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৬৪ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট যেকোনো অপরাধে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনে সাজা দিবেন। এ ছাড়া উত্তর সিটিতে ৫৪ জন এবং দক্ষিণ সিটিতে ৭৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। তারা নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবেন। যদিও আচরণবিধি লংঘনের দায়ে কারো সাজা দেয়া হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

  • ইভিএমে সেনা : ইভিএম পরিচালনায় দায়িত্বরত নিরস্ত্র সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সশস্ত্রবাহিনী সব পদক্ষেপ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সেনাক্যাম্প স্থাপন অথবা প্রশাসনিক সুবিধাদানকারী ডিভিশনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে। ইভিএম-বিষয়ক এক বিশেষ পরিপত্র জারি করে এমন নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির উপ-সচিব আতিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পরিপত্রের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন কেন্দ্রে কারিগরি সহায়তা দেয়া সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা নিরস্ত্র থাকবেন। রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং ক্ষেত্রমতে প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রে অবস্থানকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও টহল কাজে নিয়োজিত পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির সহায়তায় ওই সশস্ত্রবাহিনীর কারিগরি সদস্যদের যাবতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সশস্ত্রবাহিনীর কারিগরি সদস্যরা মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন।

দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক : দুই সিটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ১ হাজার ১৩ জন দেশি এবং ৭৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক জনসংযোগ মো. ইসরাইল হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে। ইসি সূত্র জানায়, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৭ জন, যুক্তরাজ্যের ১২ জন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫ জন, নেদারল্যান্ডসের ৬ জন, সুইজারল্যান্ডের ৬ জন, জাপানের ৫ জন, ডেনমার্কের ১ জন, নরওয়ের ৪ জন, অস্ট্রেলিয়ার ২ জন ও কানাডার ৪ জন পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়াও ২২টি দেশি সংস্থার ১০১৩ জন পর্যবেক্ষককে ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়ায় ২২টি পর্যবেক্ষক সংস্থার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন, এসডাপ, কর্মায়ন, ফোরাম ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, সমাজ উন্নয়ন প্রয়াস, বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ), বিবি আছিয়া ফাউন্ডেশন, ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর-ডর্প ও আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন, রূপনগর শিক্ষা স্বাস্থ্য সহায়তা ফাউন্ডেশন (রিহাফ), ইয়ুথ ফর হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন, তৃণম‚ল উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ, হিউম্যান রাইটস ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, মুভ ফাউন্ডেশন, লুৎফর রহমান ভ‚ঁইয়া ফাউন্ডেশন, পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এবং কোস্ট ট্রাস্ট

SHARE