• মোহাম্মদ ফিরোজ সিনিয়র রিপোর্টার   

‘বহরদার বাড়ী কল্যাণ ট্রাস্টের ‘ আয়োজনে বার্ষিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

সীতাকুণ্ড ১০নং ছলিমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত লতিফপুর গ্রামের ‘বহরদার বাড়ী’ একটি ঐতিহ্যবাহী বাড়ী। যে বাড়িতে শিক্ষিতের হার শতভাগ। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলায়, কাজ করছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদে।

প্রতি বছরের নিয়াই এই বছরেরও বহরদার বাড়ির মানুষগুলোকে একত্রিত করতে, নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়াতে ‘বহরদার বাড়ী কল্যাণ ট্রাস্টের ‘ উদ্যেগে আয়োজন করে বার্ষিক মিলনমেলা

যেটি ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর ধারাবাহিক ভাবে করে যাচ্ছে। মিলন মেলায় আয়োজন ছিল নানান ধরনের খেলাধুলার যেমন, হাড়িভাঙ্গা, মিউজিক্যাল পিলো, বিস্কুট দৌড়, ব্যাডমিন্টন, শিশুদের চিত্রাংকন, যেমন খুশি তেমন সাজো, রচনা প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ইত্যাদি ।

এছাড়াও বাড়ীর ছেলে মেয়েরা পিইসি, জেএসসি, এস এস সি, এইচ এস সি সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় ভাল ফলাফল অর্জনকারীদের পদক প্রদান করে উৎসাহ দেয়া হয় যাতে তারা আগামীতে আরো ফলাফল করতে চেষ্টা করে।

২০১৩ সালের ১০ই ডিসেম্বর অত্র বাড়ীর সন্তান কুতুব উদ্দীন আহমেদ (এফ সি এ) এর পরামর্শে এই কল্যাণ ট্রাস্ট গঠিত হয়। পুরো বাড়ীকে ৪টি ভাগে ভাগ করে মোট ৮ জনকে মাসিক চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। আদায়কৃত চাঁদা দায়িত্বশীল একজনের নিকট বুঝিয়ে দেয়া হয় যিনি এই আদায় কাজে নিয়োজিতদের মনিটরিং করে থাকেন। এই আদায়কৃত টাকা ২ জনের নামে প্রতিমাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ব্যাংকে জমা করা হয়। সংগ্রহকৃত এই টাকা দিয়ে বাড়ীর গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করা, গরীব মেয়েদের বিয়ের সময় অফেরৎযোগ্য আর্থিক অনুদান এবং বাড়ীর যেকোন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

চাঁদার পরিমাণ ছাত্রছাত্রী ১০ টাকা, অন্যরা ২০ টাকা করে দিয়ে থাকেন। এটি মাসিক হারে আদায় করা হয়।

এটি একটি নতুন সংযোজন কল্যাণ ট্রাস্টে। সাধারণত গরীব কোন ব্যক্তিকে এই টাকা দেয়া হয় স্বাবলম্বী হবার জন্য। এর বিপরীতে কোন প্রকার অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয় না। আশার কথা হল, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম যাঁকে দেয়া হয়েছে আল্লাহর রহমতে উনি এখন স্বাবলম্বী হয়ে টাকা ফেরত দেয়া শুরু করেছেন।
বর্তমান এই যান্ত্রিক যুগে আমরা সবাই ব্যস্ত। দিনদিন আমরা কেমন জানি হাঁফিয়ে উঠছি। ছুটছি আর ছুটছি।
নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য আমরা প্রতি বছরের শুরুতে একটি বার্ষিক মিলনমেলার আয়োজন করি যাতে আমরা সবাই অন্তত একটি গতানুগতিক জীবনের বাইরে এসে জীবনকে উপভোগ করতে পারি। সবার সাথে দেখা হয়ে নিজেদের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরো মজবুত করতে পারি। এর ফলে বাড়ীর তরুণ সমাজ বিপথে যাবার যে সম্ভাবনা থাকে সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে রাখা যায় নিঃসন্দেহে বলে জানান আয়োজক কমিটি।

তারা আরোও বলেন, আমরা সবাই বছরের অন্তত একটি দিন এমন একটি মিলনমেলার আয়োজন করে নিজেদের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক আরো মজবুত করি, উপভোগ করি ক্ষুদ্র এই জীবনকে, নিজেদের দূরে রাখি জীবনের নানান জটিলতা থেকে।

এবারের এই সফল আয়োজনের জন্য আমি আহবায়ক কমিটির সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুভ কামনা সকলের জন্য।

SHARE