জলি আশরাফী। গানের পথ চলা শুরু সেই ৬ বছর বয়স থেকেই। দেশ ও দেশের বাহিরে বিভিন্ন অঞ্চলে কনসার্ট করতে দেখা যায় এই তরুন শিল্পীকে। তার বাবা ছিলেন একজন গান পাগল মানুষ। তার বর্তমান ব্যস্ততা, বাংলা গানের হালচাল, নতুন প্রজন্মের গানের চাহিদা নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন মুন্নি আহমেদ।
মুন্নি আহমেদ: আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন?
জলি আশরাফী: বর্তমান সঙ্গীত চর্চা আর সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছি। দেশ ও দেশের বাহিরে ঘুরে স্টেজ পারফর্মেন্স করছি। সব শ্রেনীর দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই প্রতিনিয়ত পথ চলছি।
মুন্নি আহমেদ: গানকে সঙ্গী করে আপনার বেড়ে ওঠা নিয়ে কিছু বলুন?
জলি আশরাফী: আমার বাবা ছিলো গান পাগল একজন মানুষ। তার মুখে শুনতে শুনতে নিজেও গানকে ভালোবেসে ফেলেছি। বাবার পাশে বসেই ছোটবেলা থেকেই গান গাওয়া শুরু করেছি। ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় থেকেই রাজশাহীর অঞ্চলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়েছি। আমি গ্লাসিক গান শুরু করি যখন নবম শ্রেনীতে পড়ি। আর ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীত চর্চা শুরু হয় দেশের স্বনামধন্য সঙ্গীতজ্ঞ গুণী ব্যক্তিত্ব শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। মূলত রাজশাহী বেতারে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে তালিকা ভুক্ত হবার পর থেকেই সঙ্গীতের প্রতি আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠি আমি।
মুন্নি আহমেদ: আপনার ভবিষৎ পরিকল্পনা কি?
জলি আশরাফী: ভবিষৎতে গানের মাধ্যমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করার পরিকল্পনা আছে। গানের মাধ্যমেই মানুষের মনে স্থান করে নিতে চাই। দর্শকের চাহিদা অনুযায়ী গান গাওয়ার চেষ্টা করি। আশা করি দর্শকরাও তাদের মনে আমায় স্থান করে নিবেন।
মুন্নি আহমেদ: সম্প্রতি আপনি ‘গানে ও প্রাণে বঙ্গবন্ধু’ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ১০১ টি গানের সিডিতে আপনি সম্পদনা করেছেন তা যদি বলতেন?
জলি আশরাফী: কাজী ফারুক বাবুলের লেখা ও সুরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর উপর রচিত ১০১ টি শ্রেষ্ঠ গান আমি মনে করি, প্রতিটি গানের কথাই মানুষের হৃদয় ছুয়ে যাবে। আমি সম্পাদনা করেছি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানে গানের সিডি এটা আমার পরম পাওয়া বলে মনে করি।
মুন্নি আহমেদ: একটু অন্য প্রসঙ্গে যাই। একজন তরুন শিল্পী হিসেবে বর্তমান প্রজন্মের বাংলা গানের চর্চাকে কিভাবে দেখছেন?
জলি আশরাফী: আগের সেই গানের কথা গুলো কেউ আর লেখে না। তাই কিছুদিন পর আর কেউ তা মনে রাখেনা। কিন্তু আগের গানের কথা ও সুর এতো প্রাণবন্ত ছিল যে, আজও চির অম্লান হয়ে বেঁচে আছে এবং থাকবে মানুষের অন্তরে। বর্তমান প্রজন্ম গানের রুচিশীলতার জায়গা থেকে ভীন্নমুখী হচ্ছে।
মুন্নি আহমেদ: তাহলে দোষটা কার ঘাড়ে যাবে? প্রজন্মের রুচিশীলতার নাকি সিস্টেমের?
জলি আশরাফী: ভালোর দিকে নজর না দিয়ে খারাপের দিকে ঝুকছে সবাই। আমি মনে করি, ভালো মন্দের দিকটা যেহেতু সবাই বোঝে তবে নিজ দায়িত্বে বুঝা উচিত কোনটা ভালো। তাই সিস্টেমের দোষ না দেওয়াই ভালো যে, শত খারাপের মাঝেও নিজেকে ভালো রাখতে পারে, তবে সেই আসল ভালো।
মুন্নি আহমেদ: যুগের চাহিদার উপর ভর করে সবাই উপস্থিত হচ্ছে। মঞ্চেও এমটাই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ নিয়ে নানা প্রশ্নও আছে। এটা কি ভাবে দেখছেন?
জলি আশরাফী: যেহেতু আমরা বর্তমান যুগে বাস করছি, সেহেতু যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমরা বাধ্য। তাই যেভাবে যতটুকু শালীনতা বজায় রেখে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেটা তার জন্য ভালো।
মুন্নি আহমেদ: এই আগ্রাসন কি বাংলা গানের সংস্কৃতিকে দিন দিন প্রজন্মের কাছ থেকে কেড়ে নিচ্ছে না তো?
জলি আশরাফী: যারা বাংলা গানকে হৃদয়ে লালন করে, ভালোবাসে, তারা চীরকালই ভালোবেসে যাবে।
মুন্নি আহমেদ: প্রযুক্তির কল্যানে মানুষ কি এখন স্টেজ বিমুখ?
জলি আশরাফী: না, সবাই সরাসরি কনসার্ট দেখতে বেশী পছন্দ করে তা কিন্তু দর্শকের উপস্থিতি দেখলেই বুঝতে পাড়া যায়।
মুন্নি আহমেদ: ধন্যবাদ আপনাকে।
জলি আশরাফী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

SHARE